খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (খুমেকহা) কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরে প্রবেশ, ছবি তোলা এবং রোগী বা চিকিৎসকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক আদেশ ১ অক্টোবর জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, পরিচালক মহোদয়ের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো মিডিয়া কর্মী হাসপাতালের ভেতরে চিত্র ধারণ বা সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন না।
প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ ও প্রশ্নেঃ এই নির্দেশনা প্রকাশের পর খুলনার সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, সরকারি হাসপাতাল জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয়, তাই সেখানে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশে বাধা দেওয়া গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন বহু সময় অনিয়ম, রোগী হয়রানি ও দুর্নীতি উন্মোচন করে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
চিকিৎসায় অবহেলায় একাধিক মৃত্যু
সম্প্রতি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় একাধিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে প্রসূতি ওয়ার্ডে এক গর্ভবতী নারীর রক্তক্ষরণে মৃত্যু, জরুরি বিভাগে চিকিৎসা বিলম্বে এক সড়ক দুর্ঘটনার রোগীর মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচিত হয়। এসব ঘটনায় স্বজনরা চিকিৎসকদের দায়িত্বহীনতা ও মনোযোগহীনতার অভিযোগ তুলেছেন, যা গণমাধ্যমে সংবাদ আকারে প্রকাশও পায়।
এইসব আলোচিত ঘটনার পরপরই সাংবাদিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় অনেকের ধারণা— হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হয়তো এসব অনিয়ম আড়াল করতে চায়। সমালোচকরা বলছেন, দায়িত্বশীল প্রশাসন হলে গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং স্বচ্ছতা ও তথ্যপ্রদানে সহযোগিতা করা উচিত ছিল।