নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন হিরাঝিল এলাকায় আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে “বিদ্যুৎ মামুন” নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দখলবাজি ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে নানা অপকর্মের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুর্নীতি, দখলবাজি ও বিভিন্ন মামলা সংক্রান্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে মামুন বিপুল সম্পদের মালিক হলেও তার দৃশ্যমান কোনো বৈধ ব্যবসা বা বাণিজ্য নেই। ফলে তার এত সম্পদের উৎস কী—এ প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় সতের বছর ধরে তিনি বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রেখে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। এমনকি খোদ বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধেও হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা আরও জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এক-এগারোর সময় তিনি কোরেশী গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসীর একাংশ। ফলে তাকে এলাকায় ‘পল্টিবাজ’ বা খোলস বদলানো ব্যক্তি হিসেবেও অনেকে উল্লেখ করছেন।
অভিযোগকারীরা জানান, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অনিয়ম, সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে একাধিক মামলা দায়ের করে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এদিকে হিরাঝিল এলাকায় অবস্থিত “আল হেরা টাওয়ার” নামের একটি বহুতল ভবন নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ভবনটিকে কেন্দ্র করে অতীতে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত একটি ঘটনায় জরিমানা এবং মামলার বিষয়েও তার নাম জড়িয়েছিল বলে শোনা যায়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে বিদ্যুৎ মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।